দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৩০ মেট্রিক টন সরকারি (জিআর) চাল উত্তোলনের এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা বিতরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অবহেলার কারণে জুন মাসে টিসিবির ৪১ হাজারের বেশি উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দ চাল ফেরত গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা ত্রাণ শাখা সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসে দুই দফা বন্যায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২০টি ওয়ার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ২ হাজার ৬৪০ জন মানুষ ক্ষতির শিকার হন। একই সময়ে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হন আরও শতাধিক মানুষ।
বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় তিন হাজার মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন গত ২৯ জুন ৩০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়। পরদিন এসব ত্রাণসামগ্রী উত্তোলন করা হলেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে, আর ৩০ মেট্রিক টন চাল এখনো গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বন্যাকবলিত ইউনিয়নের পরিবর্তে বন্যার প্রভাবহীন রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের নামে ১৫ মেট্রিক টন করে মোট ৩০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়। পরে সেগুলো গুদামে রাখা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, তার ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ড, বিশেষ করে ফান্দেরচর এলাকায় মানুষ পানিবন্দি থাকলেও বারবার যোগাযোগের পরও কোনো ত্রাণ পাওয়া যায়নি। পরে তিনি জানতে পারেন, চাল বরাদ্দ হলেও তা বিতরণ করা হয়নি।
কেদার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.খ.ম. ওয়াজিদুল কবীর রাশেদ বলেন, বন্যার্তদের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও তাঁদের ইউনিয়নে কোনো চাল দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, অন্য দুই ইউনিয়নের নামে চাল উত্তোলন করে গুদামে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, তার ইউনিয়ন বন্যাকবলিত নয়। ইউএনওর নির্দেশে বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ ১৫ মেট্রিক টন চাল তার নামে এবং আরও ১৫ মেট্রিক টন চাল সন্তোষপুর ইউনিয়নের প্রশাসকের নামে উত্তোলন করে গুদামে রাখা হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সময়মতো ছাড়পত্রে স্বাক্ষর না করায় জুন মাসে উপজেলার ৪১ হাজার ১০২ জন টিসিবি উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ৫ হাজার ৫১০ কেজি চাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেই চাল ফেরত যায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন। তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণের আগেই বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় চাল বিতরণ না করে গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে তা বিতরণ করা হবে। আর বিশেষ কারণে তার অনুপস্থিতিতে টিসিবির চাল উত্তোলনের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। তবে উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ অন্যান্য পণ্য বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
যে আই ফ